হাওজা নিউজ এজেন্সি: পবিত্র মহররম মাসের আগমন উপলক্ষে হাওজা নিউজ এজেন্সি ‘জিয়ারতে আশুরা’ শীর্ষক একটি বিশেষ ধারাবাহিক প্রকাশ করছে। হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন জাওয়াদ মুহাদ্দিসীর আলোচনায় এই ধারাবাহিকে জিয়ারতে আশুরার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, যাতে আহলে বাইত (আ.)-এর জ্ঞান ও শিক্ষার নতুন দিগন্ত পাঠকদের সামনে উন্মোচিত হয়। বিশ্বস্ত আজাদার ও প্রিয় পাঠকদের জন্য এ বিশেষ আয়োজন নিবেদন করা হলো।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা আবদিল্লাহ।
আহলে বাইত (আ.)-এর প্রেমিক ও অনুরাগী প্রিয় ভাই-বোনদের প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা। জিয়ারতে আশুরা এবং এর ব্যাখ্যা নিয়ে আজ আমরা আপনাদের সেবায় উপস্থিত হয়েছি।
ইমামগণের (আ.) বর্ণনায় এসেছে—
مَنْ زَارَ الْحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كَانَ كَمَنْ تَشَحَّطَ بِدَمِهِ بَيْنَ يَدَيْهِ
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত করবে, সে যেন সেই আত্মত্যাগী ব্যক্তির ন্যায়, যে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের রক্তে গড়াগড়ি খেয়েছে।
জিয়ারতে আশুরা একটি পবিত্র ও আসমানি জিয়ারতনামা। বর্ণনা অনুযায়ী, এর পাঠ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত জিবরাঈল আমীনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছেছিল। অতঃপর মহানবী (সা.) তা আহলে বাইতের ইমামদের শিক্ষা দেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই তা ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.) থেকে শিয়াদের কাছে পৌঁছে যায়। এ কারণেই জিয়ারতে আশুরার মর্যাদা ও অবস্থান অত্যন্ত উচ্চ।
এ জিয়ারতকে হাদিসে কুদসী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.) এটি আলকামা হাদরামীকে শিক্ষা দিয়েছিলেন; যিনি ইমামের কাছে একটি বিশেষ দোয়া ও জিয়ারতের পাঠ প্রার্থনা করেছিলেন।
নিকট থেকে ও দূর থেকে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত
আলকামা হাদরামী বর্ণনা করেন, তিনি ইমাম বাকির (আ.)-এর কাছে আরজ করলেন—
المستحب من الدعاء أن أدعو به في ذلك اليوم إذا أنا أردت أن أذكره من قريب
অর্থাৎ, আমাকে এমন একটি দোয়া ও জিয়ারতের পাঠ শিক্ষা দিন, যা আমি ওই দিনে পাঠ করব, যখন নিকট থেকে আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত করতে চাই। একই সঙ্গে এমন একটি পাঠও শিক্ষা দিন, যা দূর থেকে তাঁকে জিয়ারত করার সময় পাঠ করা যায়।
তখন ইমাম (আ.) তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেন— “তুমি দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে। এরপর ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করে এই জিয়ারতনামা পাঠ করবে।”
বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারাও জিয়ারতে আশুরার মাধ্যমে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত করেন। যে ব্যক্তি এই জিয়ারত পাঠ করবে, আল্লাহ তার আমলনামায় এক হাজার নেকি লিখে দেবেন, তার এক হাজার গুনাহ মাফ করবেন এবং তাকে এক হাজার মর্যাদার স্তরে উন্নীত করবেন। আর সে এমন প্রতিদান লাভ করবে, যেন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সঙ্গী হয়ে জিহাদ করেছে এবং শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করেছে।
পরবর্তী আলোচনায় জাওয়াদ মুহাদ্দিসী ইঙ্গিত করেন যে, কিছু বিশেষ সম্বোধন বা সম্পর্কসূচক বর্ণনা সম্পর্কে আহলে বাইতের ইমামগণ (আ.) বলতেন— “আমরা এ ধরনের অভিব্যক্তি ব্যবহার করি না; কারণ আমরা তাঁর সন্তান এবং তাঁর সঙ্গে আমাদের বংশগত সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন সম্বোধন প্রয়োগ করা সমীচীন নয়।”
আশা করা যায়, ভবিষ্যতে জিয়ারতে আশুরার আরও বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হবে এবং আহলে বাইত (আ.)-এর মর্যাদা, তাঁদের চিন্তাগত, রাজনৈতিক, ব্যবহারিক ও জিহাদি অবস্থান সম্পর্কে আমরা আরও গভীরভাবে পরিচিত হতে পারব।
কারণ, জিয়ারতে আশুরা কেবল একটি জিয়ারতনামা নয়; এটি শিয়া পরিচয়ের এক ঘোষণাপত্র, আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকারনামা এবং তাঁদের পথ ও আদর্শের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতির দলিল। এটি এমন এক মীসাক, যা আমরা ভালোবাসা, বেলায়েত, দায়বদ্ধতা ও আত্মত্যাগের চেতনায় আহলে বাইত (আ.)-এর সঙ্গে নবায়ন করি।
আপনার কমেন্ট